# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রাশি পড়াশুনায় অমনোযোগী। পড়তে বললে রাগে জিনিসপত্র ভাংচুর করে, ছুড়ে মারে। বকাঝকা বা নিষেধ করলে আরও বেশি করে সেই কাজগুলো করে। তার এ ধরনের কাজের ফলে পরিবারের অন্যরা বিরক্ত হয় এবং জিনিসের পাশাপাশি অন্যরা যে ক্ষতি হয় তা সে বুঝতে পারে না।
সাধারণত ১০/১১ বছর বা শৈশবের শেষ পর্যায়ের পর থেকে প্রাপ্তবয়সের পূর্ব অর্থাৎ ১৮/১৯ বছর পর্যন্ত কৈশোর কাল। এ বয়সকে বয়ঃসন্ধিক্ষণও বলা হয়ে থাকে।
কৈশোরে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়সে যাওয়ার জন্য ছেলে-মেয়েদের শরীরের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। এ পরিবর্তনের সময়কাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত। শারীরিক বিকাশ বলতে দেহের পরিবর্তন ও আকার- আকৃতির বৃদ্ধিকে বোঝায়। শারীরিক পরিবর্তনের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য যা সবার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। এ সময় বছরে উচ্চতা ৭ থেকে ১৪/১৫ সেঃ মিঃ পর্যন্ত (৩ থেকে ৫/৬ ইঞ্চি পর্যন্ত) বাড়তে পারে। সাধারণত মেয়েরা ১৮/১৯ বছর পর্যন্ত এবং ছেলেরা ২০/২১ বছর পর্যন্ত উচ্চতায় বাড়তে থাকে। এ বয়সে তাদের ওজন বাড়লেও উচ্চতা বাড়ার জন্য তাদেরকে ক্ষীণকায় দেখায়। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন হয়, ক্রমে ক্রমে বেড়ে শিশু থেকে পূর্ণ বয়স্কের আকার ধারণ করে। বয়ঃসন্ধিক্ষণে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যার মাধ্যমে ছেলে এবং মেয়ে আলাদাভাবে চেনা যায়। ছেলেদের গোঁফ, দাড়ি উঠতে শুরু করে। গলার স্বর পরিবর্তন হয়। শুরুতে এটা ভাঙা ভাঙা হয়ে স্বর মোটা হয়।
মেয়েদের প্রতি ২৮ দিন অন্তর অন্তর ঋতুস্রাব হয়। এটি ৩ থেকে ৫ দিন, কারো কারো ক্ষেত্রে ৭ বা তার বেশি দিন চলতে পারে। আগে থেকে জানা না থাকলে এ পরিবর্তনে ভয় পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। শারীরিক এই পরিবর্তন কারও কারও ক্ষেত্রে কৈশোরকাল শুরুর সাথে সাথে না হয়ে ২/১ বছর আগে বা পরেও শুরু হতে পারে। এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। হঠাৎ করে এ বয়সে যে পরিবর্তন হয়, তা জীবনের স্বাভাবিক চক্র।

| কাজ-১ বিগত ১ বছর সময়ে তোমার শারীরিক পরিবর্তনগুলো ছকে সাজাও। |
| সময়কাল | ওজন | উচ্চতা | চেহারা | অন্যান্য |
| ১ বছর পূর্বে | ||||
| বর্তমান বছরে |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
১২ বছর বয়সী শাফি মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র। হঠাৎ কিছুদিন ধরে তার গলার স্বর পরিবর্তনসহ আরও কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটেছে। অজানা এক ভয় ও লজ্জায় গত কয়েকদিন যাবৎ সে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।
'মন' শব্দটি থেকে মানসিক শব্দটি এসেছে। শিশুরা উচ্চতায় বাড়ে, ওজনে বাড়ে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা কথা বলতে শেখে, মনে রাখতে পারে। আস্তে আস্তে দিন-রাত্রির পার্থক্য বোঝে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানের দূরত্ব কত তা বুঝতে পারে। আমাদের বুদ্ধি আছে বলেই আমরা কাজ করতে পারি। পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারি। এগুলো সবই মানসিক ক্ষমতা বা মানসিক বিকাশ। মানসিক বিকাশ বলতে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার, ভাষার প্রকাশ, চিন্তাশক্তি, বোঝার ক্ষমতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অধিক ক্ষমতা অর্জন বোঝায়।
কৈশোরে ছেলেমেয়েরা চিন্তা ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারে। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে পারে। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করাই মানসিক বিকাশের পরিণত ধাপ, যা কৈশোর কালের ছেলেমেয়েরা অর্জন করে। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা বিমূর্ত ধারণা অর্থাৎ যেগুলো দেখা যায় না, সেগুলো বুঝতে পারে। যেমন- সততা, সাহসিকতা, মায়া-মমতা ইত্যাদি। যে ঘটনা বা বিষয়টি সামনে উপস্থিত নেই, কাগজে কলমে সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে। যেমন- জ্যামিতির সমস্যা (সম্পাদ্য বা উপপাদ্য ইত্যাদি)। যুক্তি দিয়ে মতামত দিতে পারে। তাদের চিন্তা ও মনোযোগ বাড়ে। মনে রাখার ক্ষমতা, চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তি দিয়ে বোঝার ক্ষমতা ইত্যাদি মানসিক ক্ষমতা যার যত বেশি সে জীবনে তত বেশি এগিয়ে যেতে পারে। পরিবেশের সাথে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে।
কৈশোরে মানসিক ক্ষমতা বাড়ানোর কিছু উপায়-
- পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বেশি বেশি বিভিন্ন ধরনের ভালো বই পড়া।
- কৌতূহল মেটানোর জন্য প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।
- আগ্রহ নিয়ে কোনো কিছু শোনা এবং বোঝা।
- মনে রাখার জন্য পরিষ্কারভাবে দেখা এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা।
- মুখস্থ করতে হলে বিষয়বস্তু আগে বুঝে নেওয়া।
- নিজে বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষক বা বয়স্কদের কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে বিষয়বস্তু বুঝে নেওয়া।
- অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে মেলামেশা করা ও ধারণার বিনিময় করা।
- বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা।
- হাতে কলমে পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করা।
- দলীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে নিজের করণীয় বুঝে নেওয়া।
- আমাদের চারপাশের কোথায় কী ঘটছে তা জানার আগ্রহ থাকা ও জানা।
এভাবে চেষ্টা করলে তোমরা তোমাদের মানসিক ক্ষমতার উন্নতি করতে পারবে। তোমাদের সকলের জানা দরকার যে, শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকের বিকাশ ছাড়া শিশু তথা মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

| কাজ-১ তোমার মানসিক বিকাশকে নির্দেশ করে এমন কয়েকটি দক্ষতার তালিকা তৈরি করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
'বীথির মা লক্ষ করলেন বীথির শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা বেড়েছে। মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে সে অনেক কিছু বোঝে।
আনন্দ রাগ, ভয়, ভালোবাসা, হাসি, কান্না আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী, যার নাম আবেগ। আবেগ ছাড়া মানুষ হয় না। রোবটের সাথে মানুষের পার্থক্য এখানেই। রোবট মেশিনে তৈরি। মানুষের মতো সে সব পারে কিন্তু কোনো ঘটনায় হাসতে পারে না, ভয় পেয়ে পালাতে পারে না, রাগ করে চিৎকার করে না। বাইরের কোনো ঘটনা যখন আমাদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে, তখন আমরা হাসি, কাঁদি, ভয় পাই, ঈর্ষা করি, রেগে যাই- এগুলোই আবেগ।
আবেগের ধরন
আবেগের সময় দেহ, মন ও আচরণের পরিবর্তন হয়। ভয় পেলে আমাদের শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে, টেনশনে বুকের ঢিপ ঢিপ বেড়ে যায়, রাগে চোখ লাল হয়ে যায়, আনন্দে আমরা হাসি, কোনো দুঃখের ঘটনায় আমাদের কান্না পায়- এসবই আবেগের প্রকাশ। আবেগের দুটি ধরন আছে। যে আবেগ আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করে যেমন- সুখ, আনন্দ, হাসি, স্নেহ-মমতা ইত্যাদি। এ এরকম পরিবেশ আমরা চাই। এইগুলো ইতিবাচক আবেগ। অপরদিকে রাগ, ভয়, দুঃখ, ঈর্ষা ইত্যাদি আমরা পছন্দ করি না, এগুলো দুঃখের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই আবেগ হলো নেতিবাচক আবেগ।
আবেগের ক্ষতিকর দিক
অতিরিক্ত আবেগ আমাদের অনেক ক্ষতি করে। আবেগের কারণে নিজের প্রকাশভঙ্গি চেহারা পরিবর্তন হয়। রাগের সময় চোখ বড় হয়ে যায়, মুখ খিঁচে যায়, হিংস্র পশুর মতো দেখা যায়। অতিরিক্ত রাগে আচরণের পরিবর্তন হয়। অনেকে রাগে জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে, ভেঙে ফেলে, অন্যকে আঘাত করে ইত্যাদি। কোনো দুঃখজনক ঘটনায় আমাদের মন খারাপ হয়, পড়াশোনায় মনোযোগ আসে না, আমরা কাঁদি, খাওয়া বন্ধ রাখি। ভয় পেলে আমাদের অস্থিরতা বাড়ে, স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারি না, কথা বলতে তোতলাতে হয়, ঘাম হয়, হাত-পা কাঁপে। এগুলো সবই শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত আবেগ আমাদের জীবনে জটিলতা সৃষ্টি করে। আমাদের আচরণ হয় ভয়াবহ। সেখানে যুক্তি লোপ পায়।
কৈশোরে আবেগের আধিক্য থাকে। দৈহিক পরিবর্তনের জন্য আবেগের অসমতা দেখা যায়। নানা রকম দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা কাজ করে। তোমার পরিবারের সদস্যদের আচরণে তোমার অনেক সময় অভিমান হয়, রাগ হয়। এগুলো এ বয়সের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এগুলো আমাদের অনেক ক্ষতি করে।
অনেক সময় মন খারাপ থাকলে বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যায় না, ঘুম আসে না, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, দৈনিক কাজে বাধা আসে। এ কারণে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
আবেগ নিয়ন্ত্রণের উপায়- সন্ধ্যায় টিভি দেখছিল অনিক। বাবা হঠাৎ টিভি বন্ধ করে দিলেন। বাবা রেগে গিয়ে বললেন, ভালো না লাগলে আর লেখাপড়ার দরকার নেই। বাবার কথায় তার খুব রাগ হলো। বই খাতা ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছা হলো। কিন্তু সে কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেকে সামলে নিল। সে যুক্তি দিয়ে ভাবল- বাবা তো তার ভালোর জন্যই বলেছে। সন্ধ্যায় পড়ার সময় সে টিভি না দেখলেই পারত।
উপরের ঘটনায় অনিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করল, সে ঘটনার ভালো দিকটা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করল। এভাবে তোমরাও অতিরিক্ত আবেগ বা নেতিবাচক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস করতে পার। আবেগ নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়গুলো-
- যেকোনো ঘটনার ভালো দিকটা খুঁজে পেতে শেখা।
- জটিল অবস্থা মেনে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।
- হতাশাকে প্রশ্রয় না দেওয়া।
- দলগতভাবে কোনো কাজে বা খেলাধুলায় অংশ নেওয়া।
- যেসব বিষয়ে রাগ হয়, ভয় হয়, সেগুলো যেন তৈরি না হয়, তার চেষ্টা করা ও সে সব ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া।
- মা-বাবা, বন্ধুদের সাথে নিজেদের সমস্যা খোলামেলাভাবে আলোচনা করা।

| কাজ-১ গত কিছুদিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া আবেগজনিত কোনো ঘটনার বিবরণ দাও। এতে তোমার প্রতিক্রিয়া কীরূপ ছিল? তোমার প্রতিক্রিয়া সঠিক না ভুল ছিল- তা যুক্তি সহকারে লেখো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ওয়াফি ও রিমি এক সঙ্গে বাগাডুলি খেলে। ওয়াফি হেরে গেলে সে কাঠি দিয়ে রিমিকে আঘাত করে। কিন্তু রিমি তার ভাইকে কিছু বলে না।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের আচরণ বদলায়। আমাদের চারপাশের মানুষ আমাদের কাছে বয়সানুযায়ী সঠিক আচরণ আশা করে। সামাজিক বিকাশ হলো বয়সানুযায়ী আচরণ করতে শেখা। যেমন- সকলের সাথে মেলামেশা করা। সমবয়সীদের সাথে খেলা, বয়স্কদের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা ইত্যাদি। একে অপরকে সাহায্য করা, সহানুভূতি দেখানো, ভাগাভাগি করতে শেখা, ভালো কাজে অংশগ্রহণ করা, নিয়ম মেনে চলতে শেখা ইত্যাদি সবই গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচরণের মধ্যে পড়ে। অপরপক্ষে যেগুলো গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচরণের মধ্যে পড়ে না সেগুলো হলো- বাগড়া করা, মারামারি করা বা আক্রমণধর্মী আচরণ করা, গালিগালাজ করা, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা বা স্বার্থপরতা ইত্যাদি।

কৈশোরে সমবয়সী দলের আচরণ ঐ বয়সের ছেলে-মেয়েদের আচরণে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। এ সময়ে পরিবারের বাইরে অন্যতম সামাজিক পরিবেশ হলো, স্কুলের সহপাঠী ও প্রতিবেশী ছেলেমেয়েরা। কৈশোরে ছেলেমেয়েরা দলের প্রতি অনুগত থাকে, দলের মতো হওয়ার চেষ্টা করে। সঙ্গী দলের কাছে সে তার মনের ভাব ব্যক্ত করে। ব্যক্তিগত গোপন বিষয়গুলো পরিবারের চেয়ে বন্ধুদের কাছে বলতে পছন্দ করে। এভাবে কয়েকজনকে নিয়ে একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু দল তৈরি হয়। কৈশোরে বন্ধুদের সঙ্গে মিশে তাদের মধ্যে অনেক ভালো আচরণ গড়ে উঠতে পারে। বন্ধু দল যে আচরণ পছন্দ করে সেই আচরণ তারা করতে আগ্রহী হয়। যেমন- পড়াশোনায় প্রতিযোগিতা করা, শিক্ষকের নির্দেশ মানা, একসাথে খেলাধুলা করা ইত্যাদি।

আবার বন্ধু দলের উৎসাহে তারা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও ভয় পায় না। যেমন- পরীক্ষামূলকভাবে বিড়ি, সিগারেট পান, মাদকদ্রব্য গ্রহণ, স্কুল পালানো, বয়স্কদের বিরোধিতা করা ইত্যাদি। যদি কেউ আচরণগুলো না করে তবে তাকে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করা হয়, ঐ দলে থাকতে হলে ঐ আচরণগুলো মেনে নিতে তাকে বাধ্য করা হয়। এজন্য কৈশোরে বন্ধু নির্বাচনে অনেক সাবধান হতে হয়।
এবার জেনে নাও কৈশোরে সামাজিক হওয়ার জন্য কী কী করণীয়-
- সকলের সাথে কুশল বিনিময় করা
- একা একা নিজেকে গুটিয়ে না রাখা
- বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়া, খেলাধুলায় অংশ নেওয়া
- সকলের সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করা
- বয়স্কদের সম্মান করা, তাদের নির্দেশ মেনে চলা
- ছোটদের আদর, স্নেহ করা।
| কাজ- ১ তুমি যে বন্ধু দলে মেলামেশা কর, সেটিকে ভালো দল বলা যায় কি? যুক্তি দেখাও। এ দলে মিশে তুমি কী কী আচরণ শিখেছ, তা লেখো। কাজ- ২ তোমার পরিচিত কোনো খারাপ দল সম্পর্কে লেখো। তারা কী ধরনের কাজ করে এবং তাদের জন্য তোমার পরামর্শ লেখো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তিন বন্ধু নুহা, মীরা ও ঊষা। তারা সামাজিকতার দিকটি ভালোভাবে বুঝতে শিখেছে।
নৈতিকতা বলতে আমরা সামাজিক ও ধর্মীয় নীতি অনুসরণ করাকে বুঝি। এখানে ভালো বা খারাপ কাজের জন্য নিজেকেই দায়ী করা হয়। ভালো কাজ করলে যেমন মনে তৃপ্তি আসে, খারাপ কাজ করলে তেমনি নিজের কাছে অনুশোচনা হয়। সত্য বললে ভালো লাগে, মিথ্যা বললে অপরাধবোধ হয়। অর্থাৎ নৈতিকতা হলো নিজের আচরণকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা।
মানুষের জীবনে নৈতিকতা হঠাৎ করে আসে না। নৈতিকতার বিকাশে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। শিশু অবস্থায় পরিবার থেকে ভুল ও সঠিক আচরণের ধারণা তৈরি হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যে কাজ করতে নিষেধ করেন, সেটা খারাপ কাজ এবং যে কাজ করলে খুশি হন বা প্রশংসা করেন, সেটা ভালো কাজ। এভাবে ভালো ও মন্দ কাজের ধারণা তৈরি হয়। নৈতিক বিকাশের প্রথম দিকে শিশু শান্তির ভয়ে অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকে। শিশু কালের নৈতিকতাকে অনেকটা বাধ্যতামূলক নৈতিকতা বলা হয়। কিন্তু কৈশোরে ভালো ও মন্দের নিজস্ব ধারণা তৈরি হয়। এ বয়সে ভয়ভীতির কারণে তারা ভালো কাজ করে না বরং ভালো কাজ নিজের ইচ্ছেতেই করে। যুক্তি দিয়ে কাজটি কেন ভালো বা কাজটি কেন খারাপ- তা বিচার করার ক্ষমতা হয়। যারা নীতিবান হয়, তাদের মধ্যে খারাপ কাজের জন্য অনুশোচনা হয়। আবার অন্যের সামনে লজ্জা পেতে হবে জেনেও খারাপ কাজ থেকে অনেকে বিরত থাকে।
নৈতিকতা বিকাশে নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। ছোটবেলা থেকে নিয়মমতো চলার মধ্য দিয়ে আমরা ভালো অভ্যাস তৈরি করতে পারি। নিয়ম মানার মধ্য দিয়ে কোনটি করা উচিত, কোনটি করা উচিত নয়- তা জানা যায়। বাড়িতে মা-বাবা, স্কুলে শিক্ষকেরা তোমাদেরকে নিয়মনীতি মেনে চলতে অনেক সাহায্য করেন। তাদের আদেশ, নিষেধ তোমাদের ভালো অভ্যাস তৈরি করতে, অন্যায় আচরণ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। কোনো কাজ কেন ভালো বা কেন খারাপ- শিক্ষকেরা এটা বুঝিয়ে দিলে সঠিক আচরণ করা সহজ হয়। কৈশোরে শারীরিক শাস্তি ছেলেমেয়েদের মনে বিরোধ জাগিয়ে তোলে। ছেলেমেয়েরা যখন জানে, তাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে, তখন তাদের মধ্যে অনেক সময় নিয়ম ভঙ্গ করার ঝোঁক বেশি হয়। এ বয়সে ভালো কাজের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশংসা তাদেরকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে।
কৈশোরে বন্ধুদের সাথে মেলামেশা তার আচরণে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় খারাপ আচরণ বন্ধুদলে সমাদৃত হয়। আবার দলীয় সদস্যদের খারাপ আচরণ লক্ষ করে তারাও খারাপ কাজ করতে শেখে। দলে নিজের মর্যাদা রাখার জন্য এ ধরনের আচরণ খারাপ জেনেও করে। এজন্য কৈশোরে ও কী ধরনের বন্ধুর সাথে মেলামেশা করছে সেটা জানা খুবই জরুরি।
এসো কৈশোরের কিছু খারাপ আচরণ সম্পর্কে জানি এবং এগুলো থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকি।
| গৃহে খারাপ আচরণ | বিদ্যালয়ে খারাপ আচরণ |
|
|
| কাজ-১ তোমার গৃহে তুমি কী কী ভালো আচরণ করো, তার একটি তালিকা তৈরি করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. মেয়েরা কত বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতায় বাড়ে?
ক. ১৮/১৯
খ. ২০/২১
গ. ২২/২৩
ঘ. ২৪/২৫
২. কোনটি নেতিবাচক আবেগ?
ক. ভালোবাসা
খ. হাসি
গ. দুঃখ
ঘ. স্নেহ
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও
আবিরের বয়স ১৩ বছর। তার মা লক্ষ করলেন কেনাকাটা করতে গেলে আবির টাকা-পয়সার হিসাব রাখতে পারে না। কোনো জিনিসের ওজন বুঝতে পারে না। তার পাঠ্য বিষয়গুলো সে যুক্তি দিয়ে বুঝতে পারে না। আবার পড়া ভালোভাবে মনেও রাখতে পারে না।
৩. আবিরের কোন ধরনের বিকাশ ভালোভাবে হয়নি?
ক. শারীরিক
খ. মানসিক
গ. সামাজিক
ঘ. নৈতিক
৪. পড়াশোনায় ভালো করার জন্য আবিরের দরকার-
i. মুখস্থ করার আগে বুঝে নেওয়া
ii. পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়া
iii. পরিষ্কারভাবে দেখা ও মনোযোগ দিয়ে শোনা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. রাগীব এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। ক্লাসে সহপাঠীদের বাড়ির কাজ বুঝিয়ে দেওয়া, দলীয় কাজে সহযোগিতা করা, বন্ধুদের বিপদে সাহায্য করা ইত্যাদি কাজে রাগীব সবার আগে এগিয়ে আসে। এ কারণে ক্লাসে সবাই তাকে পছন্দ করে।
ক. ছেলেরা কত বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতায় বাড়ে?
খ. মানসিক বিকাশ বলতে কী বোঝায়?
গ. রাগীবের আচরণে কোন ধরনের বিকাশ লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বিভিন্ন দলে মিলে কাজ করার মাধ্যমে রাগীবের মতো চরিত্রের অধিকারী হওয়া যায় এ বিষয়ে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
২. সাজু এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। কিছুদিন ধরে তার মা লক্ষ করছেন, সে ছোট বোনের সাথে সারাদিন ঝগড়া মারামারি করে। পড়তে বসতে বললে রেগে যায়। জিনিসপত্র ছোড়াছুড়ি শুরু করে।
ক. কৈশোর কালের বয়সসীমা কত?
খ. নৈতিক বিকাশ বলতে কী বোঝায়?
গ. সাজুর আচরণে কিসের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সাজুর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা কিভাবে এ ধরনের আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে পারে বুঝিয়ে লেখো।